২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির মতো গুরুতর সমস্যা নিয়ে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী আজ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (সিআরও) দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।শুনানি প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত এই জটিলতা গুলো ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন
প্রধান অংশ বিধায়ক সিদ্দিকী সিআরও অফিসে সাক্ষাতের সময় জোর দিয়ে বলেন, SIR-এর অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকায় অসংখ্য ভোটারকে অযথা রেড-ফ্ল্যাগ করা হয়েছে, যা পরীক্ষা-না-করা অ্যালগরিদমের ফল।
এই বিপুল সংখ্যার কারণে ছোটখাটো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের ফিল্টার করে বাদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে ১.৫ কোটিরও বেশি ভোটারের শুনানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এটি নির্বাচন কমিশনের সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভোটারদের অধিকার হরণের চেষ্টা। সিআরও অফিসের সূত্র জানায়, শুনানির মাত্র ৭.২৪% সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যা বর্তমান ব্যাকলগের কারণে চ্যালেঞ্জিং।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা প্রকাশ এবং এজেন্টদের শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও, রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকায় তালিকা এখনও টাঙানো হয়নি।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন,“এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং অযথা নোটিশ পাঠানো ভোটারদের হয়রানি সৃষ্টি করছে। সরকার এবং কমিশনকে জেলাশাসকদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি সতর্ক করেন, এটি অশান্তির কারণ হতে পারে এবং FIR-এর মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ব্যাকগ্রাউন্ড SIR প্রক্রিয়া ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শুরু হয়, যেখানে ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিতে নামের বানান, পূর্ব পুরুষের সংখ্যা এবং বয়সের পার্থক্যের অসঙ্গতি অন্তর্ভুক্ত।
রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত কর্মী সরবরাহ করলেও, ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩,২৩৪ টি শুনানি টেবিল স্থাপিত হয়েছে। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে বিধায়ক সিদ্দিকী SIR প্রক্রিয়ার সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন, যা ভোটারদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন এখনও এ বিষয়ে কোনো সরকারি বক্তব্য দেননি।










