আবহাওয়াআইপিএল-2026টাকা পয়সাপশ্চিমবঙ্গভারতব্যবসাচাকরিস্বাস্থ্যপ্রযুক্তিলাইফস্টাইলশেয়ার বাজারমিউচুয়াল ফান্ডআধ্যাত্মিকঅন্যান্য
---Advertisement---

Gold: ভারতে সোনার মূল্য এত বেশি কেন এবং ভবিষ্যতে এর বাজার কী

Published on: August 3, 2025
---Advertisement---

Gold ভারতীয় সংস্কৃতিতে শুধুমাত্র একটি ধাতু নয়, এটি ঐতিহ্য, সম্পদ এবং নিরাপত্তার প্রতীক। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে,

সোনার গুরুত্ব ভারতে অপরিসীম। কিন্তু গত কয়েক বছরে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন তুলেছে কেন এত দাম? এবং ভবিষ্যতে এই দাম কি কমবে, নাকি আরও বাড়বে? এই নিবন্ধে আমরা সরল ভাষায় এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করব।

ভারতে সোনার মূল্য বেশি হওয়ার কারণ

সোনার দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এগুলোকে আমরা কয়েকটি প্রধান বিষয়ে ভাগ করে বুঝতে পারি:

১. চাহিদা ও সরবরাহ

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনার ভোক্তা দেশগুলোর একটি। বিয়ে-শাদি, উৎসব, এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সোনার ব্যবহার ব্যাপক। এই বিশাল চাহিদার তুলনায় সোনার সরবরাহ সীমিত।

ভারতের অধিকাংশ সোনা আমদানি করা হয়, যার ফলে দাম আরও বাড়ে। যখন চাহিদা বেশি থাকে কিন্তু সরবরাহ কমে যায়, তখন দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

২. আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব

ভারতে সোনার দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (LBMA) এবং অন্যান্য বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়, এবং ভারতীয় টাকায় রূপান্তরের সময় ডলারের মূল্য বাড়লে সোনার দামও বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে ভারতীয় টাকার তুলনায় ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনার দামও বেড়েছে।

৩. অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা মুদ্রাস্ফীতির সময় মানুষ সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। যখন শেয়ার বাজার বা অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ে, তখন সোনার চাহিদা বেড়ে যায়।

ফলে দামও বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছিল।

৪. সরকারি নীতি ও কর

ভারতে সোনার উপর আমদানি শুল্ক এবং জিএসটি (GST) আরোপ করা হয়। বর্তমানে সোনার উপর ৩% জিএসটি এবং আমদানি শুল্ক মিলিয়ে মোট খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া, জুয়েলার্স তাদের মেকিং চার্জ এবং লাভের মার্জিন যোগ করে, যা দাম আরও বাড়ায়।

ভবিষ্যতে সোনার বাজার কি ডাউন হবে?

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

যদি বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হয় এবং মুদ্রাস্ফীতি কমে, তাহলে সোনার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, যার ফলে দাম কমার সম্ভাবনা থাকে। তবে, বর্তমানে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সোনার দাম কমার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক বাজার

আমেরিকার জে পি মর্গানের মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৪,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।

এর অর্থ, ভারতেও দাম আরও বাড়তে পারে। তবে, যদি ডলারের মূল্য কমে বা আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার সরবরাহ বাড়ে, তাহলে দাম কিছুটা কমতে পারে।

ভারতের নীতি

ভারত সরকার যদি আমদানি শুল্ক বা জিএসটি কমায়, তাহলে সোনার দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে, এই সম্ভাবনা বর্তমানে কম, কারণ সরকার সোনার আমদানির উপর নির্ভরশীল।

বিনিয়োগকারীদের আচরণ

যদি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য সম্পদের দিকে ঝুঁকে, তাহলে সোনার চাহিদা কমতে পারে। তবে, ভারতের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

Sk Md Mejanur

দিনরাত পত্রিকা একদল উদ্যমী এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক, প্রতিবেদক, বিষয়বস্তু লেখক, সম্পাদক, ভিডিও নির্মাতা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment