ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক এখন ৫০%-এ পৌঁছেছে।
এই নির্বাহী আদেশটি ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। এই পদক্ষেপ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভারতীয় অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
শুল্কের বিশদ বিবরণ
ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আগামী ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। এর আগে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫-১০% এর মধ্যে ছিল, কিন্তু নতুন আরোপের ফলে মোট শুল্ক এখন ৫০%-এ দাঁড়িয়েছে।
এটি চীনের তুলনায় ২০% এবং পাকিস্তানের তুলনায় ২১% বেশি। এই শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রযুক্তি পণ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও যুক্তি
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে ভারত রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কিনে পুনরায় বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছে, যা ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে।
তিনি বলেছেন, “রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র ইউক্রেনে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, কিন্তু ভারত এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি উদাসীন।” এই অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশটির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
ভারত এই শুল্ক বৃদ্ধিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তাতে রাশিয়ার তেল কেনা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, “যুক্তরাষ্ট্র নিজেই অতীতে ভারতকে রুশ তেল আমদানির জন্য উৎসাহিত করেছিল বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা আনতে।” জয়সওয়াল প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা তেল কেনা বন্ধ করলে বাজারে নতুন সরবরাহ কে দেবে? তেলের দাম বৃদ্ধি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে?”
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান
এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত বাণিজ্যিকভাবে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। যেখানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলি তুলনামূলকভাবে কম শুল্কের মুখোমুখি, সেখানে ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ এটিকে প্রতিযোগিতায় এক ধাপ পিছনে ঠেলে দিয়েছে। এটি ভারতের রপ্তানি বাজারে অংশগ্রহণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিস্তৃত প্রভাব
এই পদক্ষেপ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের মধ্যে এই উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
অর্থনৈতিকভাবে, ভারতের ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হয়তো বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলার চেষ্টা করবে।
উপসংহার
ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ ভারতকে এক জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার তেলের প্রয়োজন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চাপ।
আগামী দিনে ভারত কীভাবে এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে, তা কেবল দেশটির অর্থনীতি ও কূটনীতিই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করবে।









