Hooghly : গোঘাটের পান্ডুগ্রাম বেনেপুকুর শিবতলা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় এক বছর আগে শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই স্কুলটি এখন নেশাখোরদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসরুমের তালা খোলা, ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মদের বোতল, প্লাস্টিকের গ্লাস আর নানা বর্জ্য।স্কুলের উঠানে গরু-ছাগল চরছে, দুয়ারে জমেছে জঞ্জালের স্তূপ
এমন ভয়াবহ দশা দেখে স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। তাঁদের প্রশ্ন সরকার কেন এই স্কুল বাঁচাতে পারল না? আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কেন এভাবে ধ্বংসের মুখে?
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়েছেন শিক্ষকের অভাবই এই স্কুলের বন্ধের মূল কারণ। এক সময় মাত্র একজন শিক্ষক এই স্কুল
চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকও পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। অবশেষে একমাত্র শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হলেও, দূরের স্কুলে যাওয়া অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন।
গ্রামের প্রধান বলেন,“একজন শিক্ষক দিয়ে কতদিন চলবে? আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য এই স্কুলটাই ছিল একমাত্র ভরসা। সরকার যদি শিক্ষক নিয়োগ করত, তাহলে এই দিন দেখতে হত না।”
স্কুল বন্ধের কারণ: শিক্ষকের অভাব
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই স্কুল বন্ধ হওয়ায় গ্রামের গরিব পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁদের অধিকাংশেরই বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই।
একজন বাসিন্দা বলেন,আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কি সরকারের দায়িত্ব শেষ? এখন স্কুলের ভেতরে নেশার আড্ডা চলছে, বাইরে জঞ্জাল আর গরু-ছাগল।
এটা কি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র ? সরকার কি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয় ? এই ঘটনা শুধু পান্ডুগ্রামের নয়, গোটা রাজ্যের
শিক্ষাব্যবস্থার একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষকের অভাব, আর পরিত্যক্ত ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে এসব কি আমরা মেনে নেব
Hooghly সরকারের কাছে প্রশ্ন
সরকার কি জানেন না যে শিক্ষা ছাড়া একটি সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ? পান্ডুগ্রামের এই স্কুলটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি ছিল গ্রামের শিশুদের স্বপ্নের প্রথম ধাপ।
সেই স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার দায় কার ? আমরা, সাধারণ মানুষ, সরকারের কাছে জানতে চাই আমাদের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ? এই স্কুলটি কবে আবার শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হবে?








