কলকাতা, ১৬ আগস্ট ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির (এসএসসি স্ক্যাম) ছায়ায় আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
৩৭ বছর বয়সী শিক্ষক সুবল সোরেন, যিনি ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, চাকরি হারানোর পর তীব্র মানসিক চাপে ভুগে মারা গেছেন।
বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী:
তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক উঠেছে, এই বিষয়ে ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তিনি বলেন রাজ্য সরকারকে দায়ী চাকরিহারা শিক্ষকরা প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছেন। এই ঘটনা না শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি, বরং প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফলে হাজারো শিক্ষকের দুর্দশার প্রতিফলন।
এসএসসি কেলেঙ্কারির পটভূমি: কী ঘটেছিল?
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) দিয়ে ২০১৬ সালে প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষক ও কর্মচারীর নিয়োগ হয়। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই নিয়োগগুলি অবৈধ ঘোষণা করা হয়, ফলে হাজারো শিক্ষক চাকরি হারান। অনেকে দাবি করেন যে, সুবল সোরেনের মতো অনেক শিক্ষক ‘বৈধ’ভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন,
কিন্তু সামগ্রিক দুর্নীতির কারণে তারাও শিকার হয়েছেন। এই রায়ের পর থেকে চাকরিহারা শিক্ষকরা ‘যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক ফোরাম’-এর মাধ্যমে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবল সোরেনও এই ফোরামের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
লাশ চুরি’র অভিযোগ:
সুবলের মৃত্যুর পর হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চাকরিহারা শিক্ষকরা তার দেহ নিয়ে কালীঘাট (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন) -এ মিছিল করে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু পুলিশ দেহটি ‘হাইজ্যাক’ বা ‘চুরি’ করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকরা বলছেন, “চাকরি চুরির পর এখন লাশ চুরি শুরু হয়েছে।” পুলিশের এই পদক্ষেপকে অনেকে সরকারের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা বলে দেখছেন। শেষপর্যন্ত শিক্ষকরা দেহটি গ্রহণ করে নেন, কিন্তু এই ঘটনা রাজনৈতিক তরজা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ:
চাকরিহারা শিক্ষকরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন, স্লোগান তুলেছেন “সুবল হত্যার বিচার চাই”। তারা দাবি করছেন, সুপ্রিম কোর্টের বিলম্ব এবং রাজনৈতিক খেলা এই মৃত্যুর কারণ।
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটকে তুলে ধরেছে। হাজারো শিক্ষকের মতো সুবল সোরেনও প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শিকার হয়েছেন,
যা তাদের জীবনকে অন্ধকার করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু এই মৃত্যু চাকরিহারাদের আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়েছে। সমাজের সকলে এখন প্রশ্ন তুলছেন: কবে মিলবে ন্যায়?









